ক্রাইম ফোকাস বিডিঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানাধীন আসার কোটা দেওয়ান বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান দেওয়ান।
মুক্তিযোদ্ধা সনদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাস এক গভীর ট্র্যাজেডি। প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধা নানান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নথিপত্র সংকটের কারণে বছরের পর বছর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে, জালিয়াতির মাধ্যমে অনেকে ভুয়া সনদ নিয়ে সরকারি সুবিধা ও কোটা ভোগ করেছেন।
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু হয়েছিল। অতঃপর ৩০ শে মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান দেওয়ান জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল ইউথনের নিকট গণহত্যা বন্ধের দাবিতে টেলিগ্রাম করেন।
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে কাজ করা হয়। তৎকালীন সময়ে তিনি লন্ডনে ব্যারিস্টারি অধ্যায়নরত অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যান। লন্ডনের শহরের রাস্তায় মিছিলের আয়োজন করা হয়। যেন বিভিন্ন দেশের সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। লন্ডনের এনফিল এড়িয়া থেকে মুক্তি বাহিনীর জন্য আর্থিক চাঁদা আদায় করেন তিনি। অস্ত্র কেনার জন্য তিনি নিজ তহবিল থেকে ৫৪ পাউন্ড চাঁদা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিমান ইউনিটে এবং দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে মিটিং মিছিল সহ একাধিক কর্মকাণ্ডে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
বিভিন্ন সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের যোদ্ধারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অবহেলার শিকার হয়ে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিগত দশকগুলোতে ঘুষের বিনিময়ে ও জাল নথির মাধ্যমে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে ভুয়াদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকারি কোষাগার থেকে প্রণোদনা ও ভাতাপ্রাপ্তি জটিল হয়ে পড়ে এবং প্রকৃতরা উপেক্ষিত থেকে যান।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর নানা অনিয়মের কারণে প্রকৃত আবেদনকারীরা সময়মতো সঠিক তথ্যের সন্নিবেশ ঘটাতে পারেননি। ফলে অনেকে বছরের পর এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরেও সনদ পাননি
সরকার ভুয়া সনদধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও, প্রকৃত বীরদের সম্মান রক্ষার্থে নতুন করে সঠিক তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে যাতে কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বঞ্চিত না হন

















